চসিকের নিষেধাজ্ঞা না মেনে সড়কে র‌্যাংকস এফসি’র বিজ্ঞাপন প্রদর্শন

মহানগরীতে বিলবোর্ড সাইনবোর্ড ইত্যাদির মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কিছু নিয়ম-বিধি ও দিক নির্দেশনা রয়েছে। কিন্ত এসব না মেনে নগরীর প্রায় প্রত্যেকটি আবাসিক সড়কে রোড় নির্দেশিকার নামে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করছে র‌্যাংকস এফসি প্রপার্টিজ লিমিটেড।

বিনা অনুমতি ও কর পরিশোধ ছাড়া এ ধরনের বিজ্ঞাপন ৭ দিনের মধ্যে অপসারণ করতে নির্দেশ দিয়েছিল সিটি কর্পোরেশন। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর।  কয়েক দফা গণবিজ্ঞপ্তি জারি করার পরও সরানো যায়নি এসব বিজ্ঞাপন। বছরের পর বছর কোনো কর প্রদান ছাড়া প্রদর্শিত হচ্ছে এসব বিজ্ঞাপন। কিন্তু  মাঝে কয়েকটি অ্যাড ফার্মের সিন্ডিকেট মধ্যস্বত্ব করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তবে ৬ দিনের মাথায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর শাহরিয়ার রিমন কারণ দর্শাতে গিয়ে সিটি কর্পোরেশনকে লিখেছিলেন, ‘মহানগরীতে জনগণের পথচলার সুবিধার্থে কিছু এলাকায় জনস্বার্থে সড়ক নির্দেশক স্থাপন করি, যা সিটি কর্পোরেশন আইন ২০০৯ অনুসারে অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন তা জানা ছিল না।’

রোড় নির্দেশিকাগুলো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি দাবি করে তিনি আরও লিখেন, সিটি কর্পোরেশনের পত্র পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞাপনগুলো সরিয়ে নেয়।

কিন্তু নগরীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে তার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি! বরং সিটি কর্পোরেশনের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে প্রদর্শন করে চলেছে এসব বিজ্ঞাপন। 

এ বিষয়ে তিনি সিভয়েসকে বলেন, আমাদের নিযুক্ত অ্যাড ফার্ম সিটি কর্পোরেশন থেকে অনুমোদন নিয়েছে। তার কাছে অনুমোদনের কপি রয়েছে বলে তিনি  দাবি করেন। তবে তার দেওয়া তথ্য অনুসারে সনদ বড়ুয়ার কোনো প্রতিষ্ঠান সিটি কর্পোরেশন থেকে অনুমোদন লাভ করেনি বলে জানা গেছে। 

মৃত্তিকা অ্যাড  ফার্মের স্বত্বাধিকারী সরোজ বড়ুয়া বলেন, আমরা সিটি কর্পোরেশন থেকে ২৫০টি  অ্যারো  সাইনের অনুমোদন পেয়েছি। তবে র‌্যাংকস এর সঙ্গে আমার কোনো ব্যবসা নেই।  তাদের যে এলাকায় অ্যারো সাইন আছে, সেখানে আমাদের অনুমোদন রয়েছে। তাই আমি  জানিয়েছি সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত ডিজাইন অনুসারে অ্যারো সাইন লাগাতে। তখন আমাদের প্রতিষ্ঠানে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিগত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে এসব রোড় নির্দেশিকার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হচ্ছে। গত বছর সিটি কর্পোরেশনের নজরে আসার পর টনক নড়ে অ্যাড ফার্মগুলোর। এর আগে বছরের পর বছর অনুমোদন বা কোনো কর আদায় ছাড়া বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হতো। তবে সিটি কর্পোরেশনের নিষেধাজ্ঞার পর প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্য আবেদন করে। তাতেই কাজ শেষ! অনুমোদন হোক বা না হোক,  বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে চলেছে কিছু প্রতিষ্ঠান। র‌্যাংকস এফসি ছাড়াও রয়েল সিমেন্ট, বার্জার পেইন্টস, বিএসআরএম শিল্প প্রতিষ্ঠানের রোড় নির্দেশিকায় বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে আসছে।

এমনই এক শিল্প প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে জানা যায়, তিন বছরের জন্য চুক্তি হয়েছিল সরোজ বড়ুয়ার মৃত্তিকা অ্যাডের সাথে। চুক্তি অনুসারে প্রতি বছরের ১৬ লাখ টাকা বিল নিয়েছেন তিনি। তবে তখনও সিটি কর্পোরেশনকে ১ টাকা কর দেয়নি এই প্রতিষ্ঠান।

র‌্যাংকসের দুইটি আবাসিকের দায়িত্বে রয়েছেন ট্রাস্ট কমিনিউকেশন নামের একটি  অ্যাড ফার্ম। কথা হয় ফার্মটির ম্যানেজিং পার্টনার সাজ্জাদের সঙ্গে।

তিনি সিভয়েসকে বলেন, সিটি কর্পোরেশন থেকে অপসারণের নোটিশ দেওয়ার পর আমরা সরিয়ে নিয়েছিলাম। তারপর অনুমোদনের জন্য আবেদনের পর সেগুলো পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে।

আবেদন করলেই কি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা যায় ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শহরের অনেক জায়গায় বড় বড় বিলবোর্ড রয়েছে। সেসব তো কেউ দেখছে না। সেখানে আমাদের বিষয়গুলো তো ছোট। অমান্য হলে তো সবগুলোই আইন অমান্য করা হচ্ছে।  

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সরোজ বড়ুয়ার স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান মৃত্তিকা অ্যাড ফার্ম ১২টি আবাসিকে ২৫০টি এ্যারো সাইন বা রোড় নির্দেশিকার অনুমোদন নিয়েছেন। তার মধ্যে নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে ৩৭টি, ও আর নিজাম রোড় হাউজিং সোসাইটিতে ১৯টি, পাঁচলাইশ আবাসিকে ১২টি, দক্ষিণ খুলশি আবাসিকে ১৫টি, সুগন্ধা আবাসিক এলাকায় ৩৫টি, আকবরশাহ আবাসিক এলাকা ৩০টি, হিলভিউ আবাসিক এলাকা ৯টি, দেবপাহাড় আবাসিক এলাকায় ১০টি, হালিশহর আবাসিক এলাকায় ২০টি, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় ৩০টি, বেভারলি হিল আবাসিক এলাকায় ৫টি এবং নাসিরাবাদ/ কাতালগঞ্জ/ মেহেদীবাগ আবাসিকে ২৮টি রোড় নির্দেশিকার কথা বলা হয়েছে।

তবে এসব আবাসিকে সরেজমিনে গিয়ে রোড় নির্দেশিকার সংখ্যা আরও বেশি পাওয়া গেছে। সে সংখ্যা অন্তত হাজারের নিচে হবে না। তবে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে মাত্র ২৫০টির।  এছাড়া সিটি কর্পোরেশন অ্যারো সাইনের একটি নির্দিষ্ট ডিজাইন করে দিয়েছে। তবে এই ডিজাইনের বাস্তবায়ন পরীলক্ষিত হয়নি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম বলেন, আমি সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব শাখার দায়িত্ব নিয়েছি বেশিদিন হয়নি। তাই পুরো বিষয়টি  তেমন অবগত নই। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

বিষয়টি নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা  মো. সামসুদ্দোহা বলেন, আমার জানামতে একটি প্রতিষ্ঠানকে নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকি আর কাউকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। নিষেধাজ্ঞার পরও যারা রোড় নির্দেশিকাগুলো বলবৎ রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *