সন্দ্বীপে যোগাযোগ দুর্ভোগের শেষ কোথায়?

হঠাৎ করেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরে ইসহাক। মাত্র ৬ মাস বয়সী এই শিশুটিকে সন্দ্বীপ মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হলেও ক্রমান্বয়ে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। ফলে তাকে চট্টগ্রাম নিয়ে আসার পরামর্শ দেন স্থানীয় চিকিৎসকরা। জীবন শঙ্কায় ভোগা এই শিশুটিকে চট্টগ্রাম আনতে গিয়ে বাধে বিপত্তি। নৌ যাতায়াত বন্ধ থাকায় প্রাণপণ চেষ্টা করেও ইসহাককে চট্টগ্রাম আনতে ব্যর্থ হয় তার পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে ইসহাকের খালাতো ভাই রকিবুল রকি সিভয়েসকে বলেন, হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পরলে ইসহাককে আমরা সন্দ্বীপ মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করি। কিন্তু আর অবস্থার অবনতি হওয়ায় মেডিকেলের ডাক্তাররা তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম নেয়ার পরামর্শ দেয়। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় আমরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে চট্টগ্রাম নিতে পারিনি। এমনকি হেলিকপ্টার ভাড়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।

অন্যদিকে কামরুল ইসলাম নামে একজন সিভয়েসকে জানান, শুক্রবার (৩ মে) অনুষ্ঠিত ৪০ তম বিসিএস এর প্রিলিমিলারি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল তার৷ গত বুধবার (১ মে) তার বড় বোন মারা যাওয়ায় বোনের জানাজা পড়তে সন্দ্বীপ গিয়ে আটকা পরেন তিনি। নৌ-পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নেয়া হয়নি তার।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের মাস্টার্সের এই শিক্ষার্থী আরো বলেন, শনিবার আমার মাস্টার্স ফাইনালের শেষ পরীক্ষা। নৌ পরিবহন বন্ধ থাকায় আমি এখনো সন্দ্বীপ। কাল পরীক্ষা দিতে না পারলে আমার একটা শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হবে। আমি এখনো জানিনা সকালে আমি চট্টগ্রাম পৌঁছুতে পারবো কিনা। সভ্যতার এই যুগে এসে যোগাযোগ সুবিধার অভাবে এভাবে একটা শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হবে ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।

শুধু কামরুল বা ইসহাক নয়, মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের অসংখ্য মানুষকে এরকম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় মূল ভূখন্ডের সাথে যোগাযোগে নৌ পরিবহনের বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেই সন্দ্বীপের জনগণের। আর এই একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি ।

এ বিষয়ে কথা বলতে সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হুদার সাথে যোগাযোগ করা হলে সিভয়েসকে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের দুর্ভোগের কোন তথ্য আমার জানা নেই। তবে ফণীর কারণে সন্দ্বীপ হাতিয়া রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছে জেলা পরিষদ।’

কবে নাগাদ এই রুটে নৌযান চলাচল শুরু হবে প্রশ্নের উত্তরে নুরুল হুদা বলেন, এই বিষয়ে আপনারা জেলা পরিষদের সাথে যোগাযোগ করুন।

ফণীর কারণে এবারই শুধু এমন দুর্ভোগ হচ্ছে তা নয়। প্রায় নিয়মিতভাবেই এই দুর্ভোগ পোহাতে হয় এই উপজেলার মানুষকে। নদীর অবস্থা একটু উত্তাল হলেই এখানকার নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আর এতে করে জরুরি কাজে শহরে আসতে না পেরে প্রায়ই বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির শিকার হন স্থানীয়রা।

এই সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের আন্তরিক তৎপরতা নেই জানিয়ে মহসীন নামে একজন বলেন, একটা দ্বীপ উপজেলা যেখানে পাঁচ লাখ মানুষের বাস সেই দ্বীপের যাতায়াতের জন্য বিআইডাব্লিউটিসির তত্ত্বাবধানে কোন নৌপরিবহন ব্যবস্থা নেই। শুধুমাত্র এই বিষয়টা নিয়ে ভাবলেই বুঝতে পারবেন আমাদের যাতায়াত সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষ কতটুকু আন্তরিক।

‘সারাদেশে উন্নয়নের অকল্পনীয় অগ্রযাত্রা চলছে। কিন্তু সন্দ্বীপের যাতায়াত ব্যবস্থায় তার ছোঁয়া লাগেনি। অচিরে লাগবে বলেও মনে হচ্ছে না। জানিনা আমাদের এই দূর্ভোগের শেষ কোথায়?’ যোগ করেন মহসীন।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *