কথা রাখতে পারেনি ওয়াসা, রমজানেও পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে না নগরবাসী!

বছরের বিভিন্ন সময় নানা কারণে ওয়াসার পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এতে চাহিদা মতো পানি প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রাহকরা। এ নিয়ে গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভের অন্ত নেই। তবে রমজানে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল চট্টগ্রাম ওয়াসা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীতে সুপেয় পানি সরবরাহকারী এই সংস্থাটি। ফলে গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভের মাত্রা বেড়েছে।

এদিকে রমজানেও নগরীতে পানির জন্য হাহাকার, তার সাথে যোগ হয়েছে তীব্র গরম। সব মিলিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে নগরবাসীর।চট্টগ্রামে প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটারেরও বেশি পানির চাহিদার বিপরীতে ওয়াসা সরবরাহ করছে মাত্র ৩৬ কোটি লিটার। চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪৫ শতাংশ এলাকা উঁচু-নীচু পাহাড়ি ভূমি। চট্টগ্রামে ওয়াসা পানি সরবরাহ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ ৭২ হাজার ৪১১ জন গ্রাহকের সঙ্গে। কিন্তু এখনও সব জায়গায় মিলছে না ওয়াসার পর্যাপ্ত পানি। তবে রোজায় পানি সরবরাহ সচল থাকবে বলে গ্রাহকদের কথা দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ।

মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর হালিশহর, পতেঙ্গা ও পাহাড়তলীসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের মাঝে পানির জন্য হাহাকার চলছে। একটু পানির আশায় কলসি নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন সবাই। প্রতিদিন পানি পাওয়া যায় না। দুই-তিন দিন পর পরে পানি পাওয়া যায়। কোনো কোনো সময় সাত দিন পরেও পানি জুটছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

পানি নেওয়ার জন্য কলসী নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রবাসীর স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন বলেন, একদিকে পানির জন্য সমস্যায় পড়েছি, অন্যদিকে বিদ্যুৎ থাকে না। কিন্তু রমজান মাসে বিদ্যুতের এ সমস্যা সহ্য করা গেলেও পানির অভাবে তৃষ্ণার জ্বালা সহ্য করা সম্ভব নয়।

এলাকাবাসী আরো জানান, ওয়াসা কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছিল রমজানে পানির জন্য কোনো রকম সমস্যা হবে না। রোজায় বিদ্যুৎ না থাকলেও পানি সরবরাহ সচল থাকবে। কিন্তু রমজানে আমরা আরো বেশি সমস্যায় পড়েছি। পানি পাচ্ছি দুই থেকে তিন দিন পর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ তিনি বলেন, নগরীর হালিশহর, পতেঙ্গা ও পাহাড়তলী এ তিনটি জায়গায় একটু পানির সমস্যা হচ্ছে। এ তিনটি এলাকা আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি এবং গ্রাহকদেরকে পর্যাপ্ত সেবা দিতে আমরা সর্বদা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে বলেন, অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পানি ব্যবহার করছে, অপচয় করছে। এইভাবে পানি অপচয় করার ফলে আমরাও কিছুটা সমস্যায় পড়ে থাকি।

তিনি আরো বলেন, এখন একটু গরম পড়ছে তাই পানির চাহিদাটাও একটু বেশি। বৃষ্টি পড়লে পানির চাহিদা কমে যাবে। এতে করে গ্রাহকদের পানি না পাওয়ার সমস্যা কিছুটা দুর হবে।

কবে নাগাদ গ্রাহকরা শতভাগ পানি সরবরাহ পাবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,  চট্টগ্রামবাসীর ৯০ ভাগ পানির চাহিদা পূরণ করছে ওয়াসা। তবে, শতভাগ পূরণে সময় লাগবে। আশা করি ২০২১ সালের মধ্যে এই সমস্যা দুর হবে।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *