অপরাধ স্বীকার করে আদালতে আসামি নুরুল আলমের জবানবন্দি

বাকলিয়া বলিরহাট এলাকায় গৃহবধূ বুবলি আক্তারকে (৩৫) প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আদালতে নুর আলম নামে এক আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।  সোমবার (১৩ মে) মহানগর হাকিম আল ইমরান খানের আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে।

তিনি এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি শাহ আলমের ভাই।  শাহ আলম ঘটনার পরদিন ভোর রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাব উদ্দিন আহমেদ সিভয়েসকে বলেন, বাকলিয়া থানায় গৃহবধূ খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি শাহ আলমের ভাই নুর আলমকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি দোষ স্বীকার করেন। আদালতে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

তিনি আরো বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বুবলীর ভাই রুবেলকে হত্যা করতে যায় শাহ আলম। নুর আলম ভাইয়ের সাথে ছিলেন। রুবেলকে খোঁজ করতে গেলে বোন বুবলী বাধা দেয়। বাড়াবাড়ির এক পর্যায়ে শাহ আলম বুবলীর মুখে বন্দুক তাক করে গুলি করে দেয়। ঘটনার সাথে সাথে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন নুর আলম।

উল্লেখ্য, বুবলি আক্তারের ভাই রুবেলের সঙ্গে স্থানীয় শাহ আলমসহ কয়েকজন যুবকের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতা ছিল। গত ১১ তারিখ রাতে শাহ আলম ও তার লোকজন রুবেলকে মারতে আসে। তখন তারা বুবলি আক্তারকে গুলি করে পালিয়ে যান।

বুবলি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা নোয়া মিয়া বাদী হয়ে শাহ আলম, তার ভাই নূর আলম (২৫), নবী হোসেন (৬০), আহমদ কবিরসহ (৪২), মো. জাবেদ (২৪) মো. মুছা (৪০) ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় রাতেই একটি হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার পরদিন রোববার (১২ মে) ভোরে বাকলিয়া থানার বলিরহাট কর্ণফুলী নদীর পাড় সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রধান আসামি শাহ আলম নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন বাকলিয়া থানার ওসিসহ চার পুলিশ সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি দিয়ে বুবলি আক্তারকে গুলি করা হয় বলেও জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গতকাল পুলিশ চার আসামিকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ গতকাল এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার আসামিকে গ্রেফতার করে। আসামিদের মধ্যে নুর আলম অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। বাকি তিন আসামি  নবী হোসেন, মোহাম্মদ মুছা ও আহমদ কবিরকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন আদালত।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *