যদিও তোমার জন্ম শহরে!

যদিও তোমার জন্ম শহরে আর তুমি পছন্দ করো গ্রাম,
তবুও আমি তোমাকে শোনাতে চাই শহরের কিছু গল্প।

গ্রাম

পাঁচতলা ছাদে প্রতি দুপুরে যেসব কাপড় আসে শুকোতে,
দশতলার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আমি সেসব দেখি,
কাপড়গুলোর মানুষগুলোকে দেখি না-
যেমন তোমাকে দেখি না। দেখি তোমার খোলা চিঠি,
ছবি আর মসৃণ রাস্তায় ড্রাইভ করতে গিয়ে হঠাৎ গর্তে পড়ার মতো স্মৃতি।
সামান্য কেটে ছিড়ে যায়। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে আসি!
আচ্ছা থাক। 
এসব শুনে লাভ নেই, তুমি কখনো ড্রাইভ করো নাই।
ড্রাইভ আমিও করি নাই,
তবে ভাবতে পারি।
ভাবতে পারি তোমাকে নিয়ে শ্রেষ্ঠ কবিতাটা এখনো লেখা হয় নাই
একদিন লিখবো।
কবিতা ভালোবাসা নয় যে, বিচ্ছেদ হলে অতীত হয়ে যায়।
কবিতা বর্তমান, থাকলে-না থাকলে।
তাই আমি আরো ভাবতে পারি,
অহেতুক যত বিড়ম্বনা, আঁটি বাঁধা রাগ-অভিমান,
এসব মোবাইল অপারেটরের রিচার্জ অফারের মতো আজীবন মেয়াদী নয়।
যদিও আমি নিশ্চিত নই যে ভালোবাসার মেয়াদ আজীবন!
তবুও এটা সত্য যে, শহরে কিছু মানুষ আছে যারা ঘুমায় না,
তাদের ইনসমনিয়া নেই।
তারা ঘুমায় না, কারণ তাদের ঘুমানোর কোনো কারণ নেই।
এদের সম্পর্কে তুমি কী আদৌ জানো?
তোমার বিষন্ন বিকেল ঘুম শেষে, ঠান্ডা পানিতে ভেজা মুখ,
নরোম টাওয়েলে মুছে, তুমি চলে যেও তোমাদের বাড়ির চারতলা ছাদে।
যে সত্তুরের দশকের দোতলা বাড়ির ছাদ তুমি প্রতিদিন দেখতে,
সেখানটা আধাভাঙ্গা শূণ্য চেয়ারের দিকে তাকিয়ে ভেবো-
যারা ঘুমায় না তাদের কতোটা শূন্যতা!
পাশে থাকলে, চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতাম,
দেখিয়ে দিতাম, ওই যে তুমি! পুরানো চেয়ারের মতো নিঃসঙ্গ!
অথচ সুখী চাদর পরে,
তুমি তোমার নিঃসঙ্গতাকে লুকাও পলাশ-কামিনী ফুলের পাপড়িতে,
নিজের কাছ থেকে পালিয়ে চলে যাও সাজেক-সেন্টমার্টিন সুন্দরবন অথবা অন্য কোথাও,
তুমি আমার কাছে আসতে পারো না,
তুমি তোমার কাছে যেতে পারো না।
তোমাকে তুমি লুকিয়ে রাখো-
একাকীত্বকে তুলে রাখো সারা বছর শীতের কাপড় তুলে রাখার মতো,
যদিও জানো শীত এলে স্মৃতি বের করা ছাড়া উপায় থাকে না।,

আমি আসলে কোনো গল্প না, তোমাকে কথাগুলো বলতে চাই,
ওই যে পাঁচতলার ছাদে যারা কাপড় শুকোতে দেয়,
তাদের মতো করে, তুমিও মাঝে মাঝে স্মৃতিগুলো রোদে দিও,
ভাবতে পারো, আমি দেই কিনা?
আমি স্মৃতি রোদে দিই না, সকাল বিকেল পানি দিই।
একটু তাজা হলে ভাবি-
আমাদের আবার দেখা হবে রাস্তায় ভিন্ন রুটের প্রিয় বাসের সাথে দেখা হওয়ার মতো করে।
আমরা কেউ কাউকে নিয়ে যেতে পারবো না,
কারণ এখন আর আমরা ও পথে যাই না, একসময় যেতাম।

কাসাফাদ্দৌজা নোমান

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *